আমাদের গঠনতন্ত্র
প্রভাতী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের পথচলা।
ধারা ১- নাম: এই সংগঠনের নাম প্রভাতী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, ফেনী। ইংরেজিতে Provati Sahittya Sangskritik Songsad, Feni.
ধারা ২- প্রতিষ্ঠাকাল ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ১৭ পৌষ, ১৪০৯-২৭ শাউয়াল ১৪২৩, ১লা জানুয়ারি ২০০৩.
ধারা ৩- প্রতিপাদ্য: প্রভাতী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ এর শ্লোগান, "সুস্থ সংস্কৃতির শৈল্পিক বিকাশই আমাদের লক্ষ্য…।
ধারা ৪- কার্যালয়: প্রভাতী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ এর কার্যালয় ফেনী শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকবে।
ধারা ৫- প্রতিক/লোগো: এটি প্রভাতী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ এর নির্ধারিত প্রতিক/লোগো থাকবে।
ধারা ৬- লক্ষ ও উদ্দেশ্য: বাংলার আবহমান কালের সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের সমন্বয়ে সুস্থ সংস্কৃতির শৈল্পিক চর্চা, যা নৈতিকতা সমৃদ্ধ নান্দনিক সমাজের ভীত তৈরী করবে।
ধারা ৭- কার্যধারা:
ক. চর্চা: নির্ধারিত গান, অভিনয়, ধর্মগ্রন্থের শৈল্পিক পাঠ, সাহিত্য আসর, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কনের পাঠদান।
খ. নির্মাণ: লক্ষ-উদ্দেশ্যের সাথে প্রাসঙ্গিক এমন গান, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, আবৃত্তি ও পুঁথি নির্মাণ।
গ. পরিবেশন: উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, ভ্রাম্যমান পরিবেশনা, পথনাট্য, সঙ্গীত আসর, নাটক মঞ্চায়ন, টিভি ও বেতার অনুষ্ঠান, গল্প বলা কবিতা ও পুঁথি পাঠের আসর, নিয়মিত সাংস্কৃতিক আড্ডা, প্রকাশনা উৎসব, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাবলির উপর প্রমাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী।
ধারা ৮- সাংগঠনিক কাঠামো:
ক. উপদেষ্টা পরিষদ: নৈতিকতা সমৃদ্ধ নান্দনিক সমাজের অঙ্গীকারকে সামনে রেখে, সুস্থ সংস্কৃতিমনা ও সামাজিক মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গের সম্মিলনে একজন উপদেষ্টাকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ সক্রিয় থাকবে।
খ. নির্বাহী পরিষদ: সার্বিক সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুনাবলী সম্পন্ন ১০ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।
নির্বাহী পরিষদ নিম্নরুপ: (মোট ১০ জন)
১. পরিচালক ১ জন
২. সহকারী পরিচালক ১ জন
৩. মিডিয়া, প্রকাশনা ও গবেষণা পরিচালক ১ জন
৪. অর্থ বিভাগ পরিচালক ১ জন
৫. সাহিত্য বিভাগ পরিচালক ১ জন
৬. দপ্তর বিভাগ পরিচালক ১ জন
৭. সঙ্গীত বিভাগ পরিচালক ১ জন
৮. নাট্য বিভাগ পরিচালক ১ জন
৯. শব্দ তরঙ্গ বিভাগ পরিচালক ১ জন
১০. চিত্রাঙ্কন পরিচালক ১ জন
গ. সাধারণ সদস্য পরিষদ: বিভাগীয় কাজের জন্য ৮ জন মনোনীত সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।
ধারা ৯- সাংগঠনিক ক্ষমতা:
ক. উপদেষ্টা পরিষদ: সংগঠনের বিস্তার, চেতনা বিকাশ ও আর্থিক বিষয়াদির পরামর্শ প্রদান করবেন। উপদেষ্টাগণ যে কোন সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারবেন। নির্বাহী পরিষদ গঠন, নির্বাচন কমিশন পরিচালনা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ যে কোন সমস্যা নিরসনে এখতিয়ার রাখবেন।
খ. নির্বাহী পরিষদ: পরিচালকের মাধ্যমে নির্বাহী পরিষদের সকল বিভাগের কর্ম বন্টন, মনিটরিং এবং পরিষদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে যেকোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি, বিভাগীয় সদস্যদের কার্যাবলী দেখভাল করবেন। সহকারী পরিচালকের সকল কার্যের সহযোগীতায় ও পরিচালকের অব্যহতিতে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন।
গ. সাধারণ সদস্য পরিষদ: পরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো বিষয়ে নির্বাহী পরিষদের সাথে সমন্বয় করবেন।
ধারা ১০- মেয়াদ ও নির্বাহী পরিষদ গঠন:
ক. নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ হবে ১ বছর। বার্ষিক সেট আপে নির্বাহী পরিষদ ভেঙে উপদেষ্টা পরিষদ ১০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাহী পরিষদ গঠন করবেন।
খ. উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ও ভোটের ভিত্তিতে নির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে।
গ. নির্বাহী পরিষদের অর্ধাংশ সদস্য কার্যত কারণে পদত্যাগ করলে পরিচালক নির্বাহী পরিষদ ভেঙ্গে দেবেন।
ধারা ১১- উপদেষ্টা পরিষদ গঠন: সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টাগণ এই সংগঠনের স্থায়ী উপদেষ্টা হবেন। কার্যত কারনে সুস্থ সংস্কৃতিমনা ও সামাজিক কোনো উপদেষ্টা অব্যহতি নিলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে ঐ শূন্যপদ অন্য উপদেষ্টাগন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে পূরণ করবেন। নির্বাহী পরিষদের বিদায়ী পরিচালকবৃন্দ এই উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হতে পারবেন।
ধারা ১২- সভা:
ক. ত্রৈমাসিক উপদেষ্টা পরিষদ সভা: মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ত্রৈমাসিক উপদেষ্টা পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
খ. বার্ষিক সাধারণ সভা: নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণের ১ সপ্তাহ পূর্বে উপদেষ্টা পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
গ. মাসিক নির্বাহী সভা: এক মাস পর পর নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ঘ. বার্ষিক নির্বাহী সভা: বছরের শেষে বার্ষিক বিবরণী সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় বার্ষিক সকল কার্যক্রমের রিপোর্ট, সার্বিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষণ ও প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
ঙ. জরুরী সভা: কার্য পরিচালনা ও সাংগঠনিক বিশেষ পরিস্থিতি ও প্রয়োজনে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টার নোটিশে নির্বাহী পরিষদের পরিচালক সাধারণ সভা আহবান করতে পারবেন।
চ. এজেন্ডা: সকল সভায় এজেন্ডা থাকবে।
ছ. নোটিশ: সদস্যদের অবগতির জন্য সংগঠনের সকল কার্যক্রমের চিঠি/ নোটিশপত্রাদি অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
জ. কোরাম: সকল সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভার কোরাম পূরণ হবে।
ধারা ১৩- শিল্পী ভর্তি ও শিল্পী সংগ্রহ অভিযান: যেকোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে এই সংগঠনের শিল্পী হতে পারবেন। বছরে দুই বার কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক শিল্পী সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা হবে। যার স্থায়িত্ব থাকবে ১০ দিন।
ধারা ১৪- তহবিল সংগ্রহ:
ক. শিল্পীদের ভর্তি ফি সুধীদের মাসিক ও বার্ষিক অনুদান।
খ. পত্রিকা প্রকাশনা ও বিবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে আয়।
গ. রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিবিশেষের কাছ থেকে সংগঠনের চেতনা পরিপন্থি নয় এরকম দান, অনুদান, ও বিভিন্ন প্রকার সাহায্য গ্রহণ।
ঘ. যেকোনো আর্থিক সাহায্য গ্রহণ এবং সংগঠনের পত্রিকা ও প্রকাশনা বিক্রয় বাধ্যতামূলক ভাবে নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
ধারা ১৫- হিসাব পরিচালনা:
ক. আর্থিক লেনদেন সমূহ দেশের কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংগঠনের নামে রক্ষিত হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
খ. ব্যাংক হিসাব চেয়ারম্যান, পরিচালক ও অর্থ সম্পাদকের স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। চেয়ারম্যান অথবা পরিচালকের যে কোনো একজন এবং অর্থ সম্পাদক এই দুইজনের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে।
গ. কোনো কার্য অনুষ্ঠানের আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কার্যানুষ্ঠান সমাপ্তির দুই দিনের মধ্যে অর্থ সম্পাদকের নিকট হিসাব পেশ করবেন।
ধারা ১৬- নিরীক্ষা (অডিট):
ক. ষান্মাসিক ও বার্ষিক কার্যবিবরণী সভায় ষান্মাসিক ও বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষণ ও প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
খ. যে কোন কার্যানুষ্ঠানের হিসাব পরবর্তী সভায় নিরীক্ষা করা হবে।
গ. জরুরী অবস্থায় উপদেষ্টা পরিষদ নিরীক্ষায় কার্য পরিচালনা করবে।
ধারা ১৭- আইন:
ক. কার্যনির্বাহী পরিষদের গঠনতন্ত্র অনুসৃত সংখ্যাগরিষ্ট সিদ্ধান্তই সংগঠনের আইন বলে বিবেচিত হয়।
খ. গঠনতন্ত্রে বির্ণিত হয়নি এমন কোন বিষয়ে সমস্যার উদ্ভব ঘটলে কিংবা কোন প্রশ্ন দেখা দিলে কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সিদ্ধান্ত সে বিষয়ে চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে।
ধারা ১৮- গঠনতন্ত্রের সংশোধন: গঠনতন্ত্রের মূলনীতি (উদ্দেশ্য, আদর্শ, লক্ষ্য) ও কার্যক্রমের মৌলিকতা ক্ষুন্ন না করে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন সংশোধন ও পরিবর্ধন কেবল মাত্র বর্ষিক সাধারণ সভায় সংগঠনের দুই-তৃতীয়াংশ সাধারণ সদস্যের সুপারিশ ও উপদেষ্টামন্ডলীর অনুমোদন সাপেক্ষে করা যাবে।
গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক কর্তৃক প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম মাসিক সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্রটি পঠিত হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ